নাহমাদুহূ ওয়া নুছল্লী ‘আলা রসূলিহিল কারীম। আম্মা বা’আদ; আস সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
হাবীবুল্লাহ মাহমুদ হাফিঃ এর লেখা আরেকটি বই “তরজমায়ে সূরহ মুহাম্মাদ”। এই গ্রন্থটি লেখা শুরু ও শেষ করার ইতিহাস অনেকটাই লম্বা। যখন তিনি এ বিষয়ে লেখার চিন্তা নেন রাজশাহী কারাগারে থাকতে তখন ২০২২ সাল। অতঃপর তার কিছুদিনের মধ্যেই তার মামলার জামিনের সম্ভাবনাটি খুবই শক্তভাবে স্পষ্ট হয়। আলহামদুলিল্লাহ, অনেক বাঁধা বিপত্তির পর তিনি ২০২২ সালে আগস্ট মাসে রাজশাহীর দেয়া মামলাটির জামিন পেয়ে যান।
আরো একটি মামলা থাকার কারণে রাজশাহী কারাগার থেকে তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। অতঃপর সেখান থেকে আবার পুরানো এক মামলা অর্থাৎ ২০১৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী মামলার জামিন নতুন করে করা হয় এবং ২০২২ ঈসায়ী সালের সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ জামিনে তিনি বের হন। আলহামদুলিল্লাহ। অতঃপর, তাঁর দাওয়াহ এর কাজকে আবারো সক্রিয় করতে কয়েক মাস সময় পার হয়ে যায় এবং ২০২৩ ঈসায়ী সালের ফেব্রুয়ারী মাস হতে “সূরহ মুহাম্মাদ” এর ব্যাখ্যা বা তরজমা গ্রন্থটি লেখা শুরু করেন, যার নামকরণ করেছিলেন “তরজমায়ে সূরহ মুহাম্মাদ”।
অতঃপর সূরহ মুহাম্মাদ এর ৪ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় “কাফির বন্দীদের ক্ষেত্রে আমীরুল মুজাহিদীনের ইচ্ছা” শিরোনাম পর্যন্ত লিখেন। অতঃপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ঈমান-আমল হেফাজতের লক্ষ্যে তিনি হিজরত করেন এবং ২০২৩ ঈসায়ী সালের ১৪-ই আগস্ট আবারো গ্রেফতার হন। অতঃপর তিনি মহান আল্লাহ তা’য়ালার শুকরিয়া আদায় করেন এজন্য যে, আল্লাহ তাকে আবারো ২০২৪ ঈসায়ী সালের মে মাসে জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা করেন এবং তিনি জামিনে বের হন। আলহামদুলিল্লাহ।
অতঃপর, তিনি ২৪-শে ছাত্র আন্দোলনের সময় আবার পুলিশি হয়রানির শিকার হন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে। পরিবেশ তাঁর জন্য এতটাই কঠিন হয়ে যায় যে, ২ আগস্ট রাত্রে অন্ধকারের মধ্যে বাড়ি হতে লুকিয়ে বিশাল মাঠে ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করে এবং সূর্য উদয়ের পূর্বেই নিজ গ্রাম হতে লুকিয়ে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাড়ি থেকে পালানো বা লুকানোর কারণ এই যে, গোয়েন্দা ও পুলিশ সেই দিন বিকেল থেকেই তাঁর বাড়ির আশে পাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা জানতো যে তিনি সেইদিন বাড়িতেই ছিলেন। কাজেই তারা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করে।
তখন চলমান ছাত্র আন্দোলনের দুইটি পর্যায় ছিল।
[১] ছাত্র-ছাত্রীদের সরকার বিরোধী আন্দোলন ও মিছিল মিটিং।
[২] আন্দোলনের এক পর্যায়ে জালিম সরকার ও তার বাহিনী কর্তৃক অসংখ্য নিরীহ মানুষ ও ছাত্র-ছাত্রীর মৃত্যু।
ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল নির্দিষ্ট কিছু দাবীর মধ্যে দিয়ে। যেটা শেষ পর্যায়ে ১ দফা সরকার পদত্যাগ এর দাবীতে রূপান্তরিত হয়। তারা শুরু থেকেই এর জন্য মিছিল, গণআন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল। এর একটা পর্যায়ে তাগুত সরকারমহল ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রসহ আন্দোলনরত সাধারণ গণমানুষের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করলো এবং অসংখ্য মানুষ এতে হত্যার শিকার হতে লাগলো। তিনি প্রথম অবস্থায় ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ-বিপক্ষ দুটোকেই অনর্থক মনে করেছেন। কিন্তু আন্দোলনের এক পর্যায়ে যখন মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পরেছিল এবং জালিমের জুলুমের চূড়ান্ত পর্যায়ের রূপ নিয়েছিলো, তখন তিনি এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জনমত একত্রিত করেন এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও তাদের সন্ত্রাসদের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ কর্মসূচি পালন করেন।
অতঃপর শেখ হাসিনার পতনের পর তাঁর দাওয়াহ এর কাজকে আরো শক্তিশালী ও সক্রিয় করতে বেশ কিছু মাস অতিবাহিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি ২০২৫ ঈসায়ী সালের নভেম্বর মাস হতে আবারো “সূরহ মুহাম্মাদ” এর ব্যাখ্যা বা তরজমা এর বাকি অংশ “আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকারী মুজাহিদীনদের পক্ষে আল্লাহর বার্তা” শিরোনাম হতে লেখা শুরু করেন। যা সম্মিলিতভাবে ১-১১ আয়াত একত্রিত করে প্রথম পর্ব হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে, আলহামদুলিল্লাহ।
বইটিতে তিনি সূরহ মুহাম্মাদ এর সরল অনুবাদ এর পাশাপাশি আয়াতের মর্মার্থ, ভাবার্থ ও সেই বিষয়ের উপর কুরআন-সুন্নাহ এর দলিল ভিত্তিক মুসলিমদের আল্লাহ কি করতে নির্দেশ দিচ্ছেন, কি করতে বারণ করতেছেন সেগুলো সুন্দর ভাবে সাজিয়ে লিখেছেন। এজন্য বিশেষ করে সূরহ মুহাম্মাদ কেই বাছাই করার অন্যতম কারণ হচ্ছে- বর্তমান বিশ্বে মুসলিমদের মাজলুম অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দেওয়া, যা এই সূরহ এর মধ্যে আল্লাহ তা’য়ালা জানিয়ে দিয়েছেন। বর্তমান সময়ে মুসলিমদের সাথে ইসলামও যেভাবে নির্যাতিত-নিষ্পেষিত আর চারিদিকে বিদআত-কুসংস্কার, অপব্যাখ্যাকেই যেভাবে ইসলামের রীতি-নীতি হিসেবে চালানো হচ্ছে তা সম্পর্কে মুসলিমদেরকে অবগত করা ও কঠিনভাবে সতর্ক করা। এছাড়া চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানো যে- কুরআন-সুন্নাহর বিপরীত বর্তমানের ইসলামের মধ্যে কোথায়, কারা ও কিভাবে বিকৃত সাধন করছে, কারা মুসলিমদের বিরোধিতা করছে, বাঁধা দিচ্ছে। আরো রয়েছে- সমাজে নামে মুসলিম ও প্রকৃত মুসলিমদের বিপরীতমুখী অবস্থান ও কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা। মুসলিমদের এ বিষয়ে জ্ঞানার্জন করার জন্যই এই বইয়ের প্রকাশ।
সূরহ মুহাম্মাদ এর আরেকটি নাম হচ্ছে ‘সূরহ ক্বিতাল’ অর্থাৎ যুদ্ধ। যখন চারিদিকে জুলুম দিয়ে ভরে যায়, ইসলামের আলো নিভু অবস্থায় চলে যায়, বাতিলদের অত্যাচার-নির্যাতন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে, বিধর্মী কর্তৃক মুসলিমদের হত্যা ও সশস্ত্র আক্রমণ চলতে থাকে, ইসলামকে চিরতরে মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলতে থাকে, তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন-
“অতএব, তোমরা যখন কাফিরদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হও, তখন তাদের ঘাড়ে আঘাত কর। পরিশেষে তোমরা যখন তাদেরকে সম্পূর্ণ ভাবে পরাস্ত করবে তখন তাদেরকে শক্ত ভাবে বেঁধে নাও। তারপর হয় অনুগ্রহ কর, না হয় মুক্তিপণ আদায় কর। যতক্ষণ না যুদ্ধ তার বোঝা রেখে দেয় (অর্থাৎ যুদ্ধ বন্ধ হয়)। এটাই বিধান।” (সূরহ মুহাম্মাদ, আ: ৪)
সম্পাদক
জিহাদুল ইসলাম
বইটি ডাউনলোড করুন
ডিরেক্ট ডাউনলোড- https://dl.gazwatulhind.site/file.php?id=Tarjama_E_Surah_Muhammad_pdf
আল্টারনেটিভ লিঙ্ক- https://dl.gazwatulhind.com/file.php?id=Tarjama_E_Surah_Muhammad_pdf
গুগল ড্রাইভ লিঙ্ক- https://drive.google.com/file/d/1i28T6y3hWwQpinR1inh9P15G4V1WyzVi/view?usp=drive_link
টেলিগ্রাম লিঙ্ক – https://t.me/imam_mahmud2/107
ইমাম মাহমুদ হাবীবুল্লাহ এর সকল বই ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন
https://dl.gazwatulhind.com
অথবা
https://dl.gazwatulhind.site
গুগল ড্রাইভ লিঙ্ক-
https://drive.google.com/drive/u/0/folders/1brLsBFlb49LgpypnHByUVFStUQ4xKx1l



